১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার

 ১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার দেয় এমন মডেল অনেকে খোজেন।কারন বর্তমানে এটি একটি অনলাইন ক্লাশ,অফিস মিটিং,ফ্রিল্যাংসিং কল ,ক্লায়েন্ট মিটিং ও দৈনন্দিন যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় বস্তু। কিন্তু আপনি কি জানেন -১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার পাওয়া যায় ।


       
                                                                        

আপনাকে সাঠিক মডেল নির্বাচন করতে হবে। এই আরটিকেলে  আমরা  আলোচনা করবো আপনার বাজেটের অর্থাৎ  ১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  কেনার কৌশল ,টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা,তুলনা ব্যবহারভেদে পরামর্শ ও কোনটি আপনার জন্য ভাল হবে।


সূচিপত্রঃ 


 কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার হওয়া কেন প্রয়োজন

১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার হওয়া অত্যান্ত জ্রুরী । কারন আপনার কণ্ঠস্বর যদি অপর পাশে পরিস্কার শোনা না যায় তাহলে অনলাইন ক্লাশ বা মিটিং এ সমস্যা হতে পারে। আপনার ছাত্র আপনার কথা বুঝতে না পারলে কোন কিছু নোটও লিখতে পারবে না। আবার আপনার ক্লায়েন্ট যদি আপনার  কথা বুঝতে না পারে তাহলে কোন অর্ডার দিতে পারবে না। তাই ব্লুটুথ কলিং ডিভাইসে ভালো মাইক্রফোন ও নয়েজ কন্সোলেশন থাকা প্রয়োজন।


আপনার কথা বুঝতে না পারলে আপনার ছাত্র বা ক্লায়েন্ট আপনার থেকে সরে যেতে পারে। ফ্রিল্যাংসিং থেকে আপনার আয় কমে যেতে পারে। আপনার ওয়েব সাইটির গুগলে  র‍্যাংক এর ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে। ফ্রিল্যাংসিং এর ক্ষেত্রে  ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার হওয়া অত্যান্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

 কলিং কোয়ালিটি নির্ভর করে যে সব বিষয়ের উপর

১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার হওয়ার পেছনে যেগুলো প্রধান ভুমিকা রাখে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো-

ডুয়াল মাইক্রফোন সিস্টেম

ডুয়াল মাইক্রফোন আপনার আশেপাশের নয়েজ আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে। ফলে  আপনার কন্ঠকে আলাদা করে ফোকাস করতে পারে। এর ফলে অপর পাশের আপনার ছাত্র বা ক্লায়েন্ট আপনার কথা ক্লিয়ার শুনতে পাবে। 

ENC (environmental Noise Cancellation )

ENC এর প্রধান কাজ হলো কলিং এর সময় আশেপাশের শব্দ কমানো যার ফলে  আপনার কণ্ঠস্বরকে আরও পরিস্কারভাবে অপর প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারবে  আর আপনার  ফ্রিল্যাংসিং কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করে  তুলতে পারবে ।

 Bluetooth ভার্সন

ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  হয়ার ক্ষেত্রে  Bluetooth ভার্সন কার্যকর ভুমিকা রাখে।  bluetooth 5.0 বা এর উপরের ভার্সন থাকলে  কলিং কানেকশন স্থির থাকে ও ভয়েস ঠিক ঠাক থাকে, অর্থাৎ এত সরাসরি সাউন্ডের স্বচ্ছতা ও কল কয়ালিটির ঊপর প্রভাব ফেলে।


 ১৫০০ টাকার নিচে সেরা ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার

 ১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  ভাল পাওয়া যায়।এমন কয়েকটি মডেলের নাম উল্লেখ করা হলো-

 QCV T13-

এই  মডেলের ডিভাইসটি  অনলাইন মিটিং বা ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ভাল। কারন এতে রয়েছে -
  • ডুয়াল  মাইক্রফোন  ও  ENC
  • ক্লিয়ার ভয়েস  ট্রান্সমিশন 
  • ব্যাটারি দীর্ঘ সময় চলে

Haylou X1 Neo

 এই মডেলের ডিভাইসে যে সকল  সুবিধা রয়েছে-
  • হাল্কা ওজন ও আরামদায়ক
  • ভালো ভয়েস  ক্লিয়ারিটি 

Oraimo FreePods Lite-ENC

এই মডেলের ডিভাইসে যে সকল  বিশেষ বৈশিস্ট আছে-
  • ভাল ব্যাটারি ব্যাকআপ
  • ক্লিয়ার কলিং পারফরমেন্স
  • ENC সাপোর্ট 
Redmi Buds 4 Lite

এটা একটি বিশ্বস্ত ব্রান্ড এতে  রয়েছে ব্যালান্স সাউন্ড সিস্টেম।

M10 TWS

এটা  মডেলটি সীমিত বাজেটে পাওয়া যাবে। সাধারন কলের জন্য ভাল।

 অনলাইন ক্লাশ এর জন্য সেরা পছন্দ

 ১৫০০  টাকার  নিচে  ব্লুটুথ  কলিং  সাউন্ড  ক্লিয়ার  দিয়ে অনলাইন  ক্লাশে   Zoom,  Goole Meet  বা  messenger  ব্যবহার   করলে  ডুয়াল  মাইক্রফোন ও  ENC  থাকা  ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  ডিভাইস বেছে   নেওয়া  উচিৎ। কারণ  আপনি  কথা  বিকৃতি  বা  কাটাকাটি  ছাড়া  পরিস্কার শুনতে পাবেন।




  এছাড়াও ব্লুটুথ  কলিং সাউন্ড  ক্লিয়ার  আপডেটেড  ভার্সন  বাইরের শব্দ কমায় ফলে আপনি আরও  পরিষ্কার শুনতে পাবেন। তাই ডুয়াল  মাইক্রফোন ,আপডেটেড  ভার্সন ও  ENC  থাকা  ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  আপনার বেছে  নেওয়া উচিৎ।

 TWS না নেকব্যান্ড -কোনটি অপেক্ষাকৃত ভাল

কলিং এর জন্য নেকব্যান্ড বিবেচনা করা যেতে পারে। কারন এতে ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি থাকে এবং মাইক মুখের কাছাকাছি থাকে।

কোথা থেকে কিনবেন?

১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার বিভিন্ন স্থানীয় মোবাইল শপ থেকে কেনা যায় তবে Daraz,Pickaboo  এর অফিসিয়াল শোরুম থেকে কেনা ভাল।

কেনার সময় যে সব বিষয় এড়াবেন

  • শুধুমাত্র বেস দেখে কেনা
  • কপি/ ফেক পণ্য 
  • ওয়ারেন্টি ছাড়া কেনা
  • রিভিউ না দেখে কেনা


১৫০০ টাকার নিচে  কেনা কেন চ্যালেঞ্জিং

১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার ডিভাইসের  অনেক ব্র্যান্ড  থাকলেও সবগুলোর কলিং কোয়ালিটি ভাল হয় না। অধিকাংশ ডিভাইসে দেখা যায়ঃ
  • একক মাইক্রফোন
  • নয়েজ রিডাকশন
  • কানেকশন ড্রপ সমস্যা
  • মাইকের ভয়েস লো 


ফ্রিল্যাংসিং এর  জন্য যে গুলো ভাল

১৫০০  টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  যেগুলো নেকব্যান্ড  এবং  ENC  ও ডুয়াল মাইক যুক্ত আছে , ফ্রিল্যাংসিং এর  জন্য  সেগুলো  সেগুলো বেছে  নেওয়া  উচিৎ। কারণ  এই ধরনের  ডিভাইস আশেপাশের শব্দ কমিয়ে আপনার কথা স্পস্টভাবে অপর প্রান্তে পৌঁছে দেয়।



নেকব্যান্ড   ব্লুটুথ  কলিং সাউন্ড  ক্লিয়ার  ডিভাইসে  মাইক্রফোন মুখের কাছে থাকায় আপনার কথা ক্লিয়ার শোনায়  দীর্ঘ সময় কথা বলা যায় তাই  ENC  ও  ডুয়াল  মাইক যুক্ত  নেকব্যান্ড   ব্লুটুথ  কলিং সাউন্ড  ক্লিয়ার  ডিভাইস  আপনার পছন্দের হওয়া উচিৎ।

কেনার সময় যে সব বিষয়গুলো যাচাই করবেন 

১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার ডিভাইস কেনার সময় নিম্ন লিখিত বিষয় যাচাই করা উচিৎ--

ব্যাটারি ক্যাপাসিটি   ঃ  ব্যাটারি ক্যাপাসিটি  ভাল হতে  হবে। কারন  দীর্ঘ সময় কথা বলতে না পারলে আপনার  মিটিং  অসমাপ্ত  থাকবে আর  তখন  ক্লায়েন্ট থেকে কোন  অর্ডার  নিতে পারবেন  না। তাই
কেনার সময়  ব্যাটারি ক্যাপাসিটি  দেখে কিনবেন।
 
অফিসিয়াল  ওয়ারেন্টি আছে কিনা ঃ অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি  না থাকলে  ডিভাইসটি কেনার পরে কোন  ত্রুটি   থাকলে  বা  তাড়াতাড়ি নস্ট  হলে  আপনি  ক্ষতিগ্রস্ত  হতে  পারেন  তাই  কেনার  সময়  অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি আছে কিনা দেখে কিনবেন।

Bluetooth ভার্সন দেখুন ঃ 
ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার ডিভাইসে  Bluetooth ভার্সন ৫.০ বা তার উপরে আছে কি না দেখে কিনবেন কারণ এই ভার্সন সাউন্ডের স্বচ্ছতা ও  কল কোয়ালিটির উপর প্রভাব ফেলে।


IP রেটিং :  IP  ( Ingress protection ) রেটিং  মূলত  ডিভাইসটি কতটা ধুলো ও পানি প্রতিরোধী তা নির্দেশ করে। পানি বা ধুলোবালির  কারনে মাইক্রফোন  ব্লক হয়ে  গেলে  ভয়েস  কোয়ালিটি খারাপ  হতে পারে। তাই  কেনার সময়  IP রেটিং  বিবেচনা করা উচিৎ।

রিভিউ পড়ুন ঃ ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  রিভিউগুলোতে মাইক্রোফোনের  পারফরম্যান্স ও শব্দের ক্লিয়ারিটি নিয়ে ফোকাস থাকে।


 কলিং কোয়ালিটি টেস্ট করার উপায়

১৫০০ টাকার নিচেব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার ডিভাইস কেনার সময় কলিং কোয়ালিটি টেস্ট করা উচিৎ। আপনি যে ভাবে টেস্ট করবেন-

  • ১ম কলটি খোলা যায়গায় দিন ঃ ১ম কলটি খোলা যায়গায়  দিয়ে সাউন্ড কতটা ক্লিয়ার তা টেস্ট কতে হবে।

  • ২য় কলটি ব্যস্ত রাস্তায় দিন ঃ ২য় কলটি ব্যস্ত রাস্তায়  দিয়ে  আশেপাশের শব্দ কতটা কমিয়ে সাউন্ড ক্লিয়ার করতে পারছে তা টেস্ট করতে হবে।

  • রেকর্ড করে নিজের ভয়েস শুনুন ঃ কল রেকর্ড করে নিজের ভয়েস শুনুন  পরিস্কার  শোনা যাচ্ছে কি না তা  টেস্ট করতে হবে।

উপসংহারঃ

সবশেষে বলা যায় যে , ১৫০০ টাকার নিচে ব্লুটুথ কলিং সাউন্ড ক্লিয়ার  পাওয়া সহজ তবে সঠিক ফিচার ও ব্রান্ড বেছে নিতে হবে। আপনার ব্যবহার, পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী নেওয়ায় ভাল।







এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url